Friday, June 27, 2008

মুঠোফোন পদ্য - ৩

যখন তুমি
একটু দুরে,
তোমার গানই
গাইছি সুরে,
তুমি এখন
মুক্ত পাখি,
ইচ্ছে করে
এই সময়ে
দৌড়ে গিয়ে
তোমায় দেখি।
--------------

তুমি নাই
আর আমি ফুর্তি নিয়ে কাজ করব?
তুমি নাই
আর আমি কাজে ঝাপায়ে পড়ব?!
তুমি আছো
তাই মন বসে কাজে,
প্রাণ খুলে দম নিই
যখন ফোনে ঝামটা বাজে :-)

----------------

আজ তোমার এক ঝলক হাসি
ছিল চৈত্রের রোদে ঝড়ো হাওয়া
বৃষ্টির মত..।
ধুয়ে মুছে নিয়ে যায় অবসাদ
আর ব্যস্ততার গুমোট
ক্লান্তি যত..।
আজ চিতকার করে
বলতে চেয়েছিলাম
কী ভীষন সুন্দর তোমার হাসি!
এত্ত আপন লাগে..
তোমায় এত্ত ভালোবাসি..!

----------------------

বন্ধ দরজায় টোকা দেয়
সন্ধ্যা বেলার উদাস পাগলামি।
দরজা খুলে দেখো,
দাড়িয়ে আছি তোমার জন্য আমি,
তখন আলোর মত হাসি নিয়ে
দোর খুলে দেয়
আমার নাতনির নানি।

Thursday, June 19, 2008

মুঠোফোন পদ্য - ২

অফিস থেকে বেরিয়ে ধানমন্ডি লেকের পাড়ে হাল্কা বৃষ্টির মধ্যে একা একা বসে ছিলাম। তোমার কথা মনে পড়লো... আর মুঠোফোনে তোমাকে পদ্য লিখতে বসলাম......

পেন্সিল কিনি
বিড়ির বদলে,
বৃক্ষ আঁকি
তোমার আদলে,
উদাস বসে
ভরা বাদলে,
শুধু তোমায়
ভালোবাসব বলে,
সারাক্ষণ এই
মনটা দোলে..।

আমাদের অফিস

আমি যদি আমার মত থাকতে পারি তাহলে আমি যা করি সেইটা শিল্প হওয়ার একটা সুক্ষ সম্ভাবনা থাকে। আর আমাকে যদি নিজের স্বত্তাকে বিকিয়ে জোর করে 'শিল্প' করতে হয় তাহলে সেটা আর যাই হোক স্থাপত্য হয়না।
না, আমাদের অফিস তবুও আর দশটা অফিসের থেকে আলাদা। এখানে নিজের মত করে কিছু করার অল্প বিস্তর সুযোগ পাওয়া যায় বটে! তারপরও শেষ পর্যন্ত সবই আসলে ওই 'কামলা খাটা'... আমি এর কী করি? শুধু নিজেকে বদলে বদলে নতুন ছকে ফেলার চেষ্টা চলে। আর দুই দিন পর পর মনে হয়... এইটা তো আমি না!
তাই সাত সকালে অফিসে বসে আজকে পেন্সিল নিয়ে পদ্য লিখতে বসলাম.....

সব নাট,বল্টু আর প্যাঁচের খেলা।
নাট মেলে তো বল্টু মেলেনা।
বল্টু মেলে তো প্যাঁচ খোলেনা।

নিজেকে নতুন করে পেঁচিয়ে ফেলা...
বারবার নতুন করে মিলিয়ে নেয়া...
দিন শেষে মফিজের মত ভাবতে বসা...
"এই প্যাঁচ তো আমার না!"

এই নাট আমি না, বল্টু আমি না
আমি তোমাদের খেলার কেউ না।
আমাকে কেই খেলতে নিওনা...

ভবঘুরে আমি

আমি এক নতশির হতভাগা পাগল,
নিজের মত ক্ষিণধীর চারপাশে রুদ্ধ আগল।
আমি নি:শ্ব ব্যর্থ ক্লান্ত ভবঘুরে,
খুঁজি তোমার অর্থ, ভেজা চোখ ঘোলা জলে..

Monday, June 16, 2008

মুঠোফোন পদ্য - ১

Dark dark dark,
ঘরে নাই আলো,
বসে আছি, তুমি কোই,
কথা বলো...
Sms আসেনা,
ঘুমায় কেন পেঁচা?
না, ফোনে সমস্যা?
আমার ভাগ্য পচা?

-------------

সারাদিন মাত্র একটা পাওয়া..

তোমার কাছে ঝামটা খাওয়া!

তোমার কথাই ভাবছি বসে..

মনকে শোধু মারছি কোষে,

একটু কথা বললে হত..

ভবঘুরে মন শান্তি পেত!


-------------

একটুকরো হাসিমুখ খুঁজি
এই ঘোলা সন্ধ্যাবেলার আলোতে,
এক ঝলক তিব্র আলোকরশ্মি দেখি
সব জটিলতার কালোতে।

----------------

মাথার তিব্র জন্ত্রণাগুলোর সুক্ষ উপশিরায়
ধোঁয়ার মত তোমার ছবি দেখতে পাই,
ছুতে পারিনা কথনো, তবুও
অন্ধের মত হাতড়াই...
মরতে মরতে বাঁচতে শিখি,
অণু পদ্য তোমায় লিখি,
ঝাপসা চোখে ধোঁয়াটে দেখি,
লিখতে লিখতে 'পেন্সিল' ক্ষয়ে যায়,
তবু একটি বারের জন্যও
তোমার দেখা নাই...।

--------------------

ঘুম পায় না?
তুমি কোই? কি করো?
আমি আধো ঘুমে রাস্তায়,
স্বপ্ন বুনি ছোট-বড়।

-------------------

তুমি নাই কেন?
ভালোলাগেনা আর...

চেয়ে আছি কাকের মত।
মাথায় অন্ধকার,
তুমি কি ঘুমাচ্ছো?
ঘুমাও তাহলে..
শুধু একবার কথা বোল
ঘুম ভাঙলে...।

--------------------

তোমার একটা ঝামটার জন্য
শত রাত জাগতে পারি,
তোমার আঁচলের জন্যই তৈরি হয়
দুনিয়ার সকল শাড়ি,
আর আমি বসে, থাকি স্বপ্ন দেখি,
সাগর মহাদেশ দেই পাড়ি...।

----------------------

ভেজা বাতাসে গর্ভবতি মেঘের
প্রসবের অপেক্ষা সবার,
ভেজার নেশায় চুর হয়ে গুনি
আজ পহেলা আষাঢ় ।

-----------------------

Thursday, June 5, 2008

আমার পোস্টমর্টেম

সেই একই ধ্বংশের পথ। মানি মেকিং মেশিন তৈরির পথ।
সত্যের সাথে থাকলে তুমি সমাজের পথে থাকবেনা এই হলো নিয়ম।
সেই একই ধীরগতির দূষিতকরন। নিজের আজান্তেই ধিরে ধিরে অন্যায়কে ‘হাঁ’ বলতে শুরু করা, তারপর ধিরে ধিরে সেই অন্যায় করার দিকে এগিয়ে যাওয়া... এইতো হয়। আমি আসলে মোটেও ‘অন্যরকম’ না। আমিও যে ওরকমই সেটা প্রমাণ করার পথে আছি এখন... দূষিত হচ্ছি, দুদিন পর আরেকজনকে দূষিত করার যোগ্যতাও অর্জণ করে ফেলব।

আমার ‘অন্যরকম’ হওয়ার চেষ্টাটা একটা নিপাট বোকামি অথবা ভন্ডামি। কারন আমি ‘অন্যরকম’ না। আমি তো দিনে দিনে ঠিক আর দশটা টিপিক্যাল ভন্ড বাঙালি ব্যবসায়ীর মত আচরণ করা শিখে ফেলছি। আলু প্রজাতির টিপিক্যাল বাঙালি ‘বুদ্ধিজিবী’র মত চিন্তা করছি।

আর স্থাপত্যের তো কিছুই শিখছি বলে মনে হচ্ছেনা। সবটাই ভুল পদ্ধতিতে, ভুল সময়ে, মিথ্যা উদ্দেশ্যে, অন্যায়ভাবে বেগার খাটা হচ্ছে।

ভালোবাসতেও ভুলে গেছি। এখন আর কোনকিছুকেই ভালোবাসতে পারিনা, কাওকে ভালোবাসতে পারিনা। আমার শুদ্ধ নিপাট নির্মোহ ভলোবাসার ক্ষমতাটাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রায়ই মনে হয় আমার সেই শুদ্ধতম ভালোবাসাটুকু নেয়ার মত কেও নাই, সবাই এত ভীত! তাই আমিও ভালোবাসতে ভুলে গেছি।